হঠাৎ করেই সাইকেল নিয়ে বেড় হয়ে পরি দ্বীপে রাত্রী যাপনের উদ্দেশ্যে

কমলা দীঘি৷ প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য যেখানে কোন কোলাহল নেই৷ দুই বন্ধু মিলে হঠাৎ করেই সাইকেল নিয়ে বেড় হয়ে পরি দ্বীপে রাত্রী যাপনের উদ্দেশ্যে… প্রথম দুইদিন সিদ্ধান্তই নিতে পারিনি আমরা প্রথমে কোন দ্বীপে যাবো, এরপর কোন দ্বীপ থেকে কোন দ্বীপে যাবো, ঐ সিদ্ধান্ত না নিতে পারার এক পৈশাচিক আনন্দের মধ্যেই একদিনে শুধু নোয়াখালির মধ্যে ২০০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল নিয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরাঘুরি করি… সারাদিন ঘুরুঘুরি শেষে সিদ্ধান্ত নেই আমরা যাবো হাতিয়া… যখন সিদ্ধান্ত নেই তখন অনেক দেড়ি হয়ে গিয়েছে, রাত প্রায় ১১টা৷ কোন উপায় না দেখে ঐ রাতে চেয়ারম্যান ঘাট লঞ্চঘাটেই থানার পাশে খুলা মাঠ দেখে তাবু গেড়ে রাতে থেকে যাই৷

এর পর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নোয়াখালির চেয়ারম্যান ঘাট থেকেই ট্রলারে করে চলে যাই হাতিয়া উপজেলায়৷ হাতিয়া ঘাট থেকে ৮ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকলেই উসখিলা বাজাড়৷ উসখিলা বাজাড়ে সকালের নাস্তা খেয়ে বেড় হয়ে পরি হাতিয়া দ্বীপের সৌন্দর্যের খুজে… বাজাড় থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে নদীর দিকে ঢুকলেই কমলাদীঘি! কমলাদীঘিতে ঢুকার পর প্রথম ৫ মিনিট আমরা দুইজন হা করে তাকিয়ে আছি এতো গুছানো একটা দীঘি হয় কীভাবে! চারপাশে ১টি ময়লাও নেই, পানিতে নেই বিন্দু পরিমান কোন কাগজের টুকরো পর্যন্ত! সবচেয়ে বড় কথা বিশাল বিস্তৃত এলাকায় ঐ সময়টাতে আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম, পাশেই বন বিভাগের অফিস কিন্তু ঐদিন অফিস বন্ধ থাকায় আশপাশে কোন মানুষের চিহ্ন পর্যন্ত ছিলো না৷ দীঘির পাশেই নদীর চর (ঐখানে কোন মানুষ না থাকাতে কোন নদীর চর তা জানতে পারি নাই, সম্ভবত মেঘনা নদী হবে) !

নদীর চরে বিশাল উপকূলীয় কেওড়া বাগান, বাগান ভরা গরু! কিছু সৌন্দর্য ছবি তুলে বুঝানো যায়না, ঐ বাগানটাও এমনই একটা সৌন্দর্য! অনেকটা সীতাকুন্ডের গুলিয়াখালির মতো, তবে গুলিয়াখালির চেয়ে অনেক বেশি গুছানো এবং পরিষ্কার! সবচেয়ে বড় কথা বিশাল সৈন্দর্যের মধ্যে যতদূর চোখ যায় ততদূর কোন মানুষ, ময়লা-আবর্জনা চোখে না পরা অনেক বড় ভাগ্যের ব্যপার, বিশেষ করে আমার মতো সলো ট্রাভেলারদের জন্য তা রীতিমতো স্বর্গ!

সারাদিন দীঘির সৌন্দর্য দেখে ক্লান্ত হয়ে রাতে তাবু গেড়ে থেকে যাই দীঘির পরে, পরদিন ঘুম থেকে উঠেই বেড়িয়ে পরি অন্য কোন দ্বীপের খুজে, পরবর্তী পোষ্টে বলবো ঐ দ্বিপের কথা…(কমলাদীঘি যেভাবে যাবেন: হাতিয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চ যায় এমন যেকোন ঘাট থেকেই হাতিয়া, হাতিয়া ঘাট থেকে মটর সাইকেল বা টেম্পুতে করে উসখিলা বাজাড়, উসখিলা বাজাড় থেকে মটর সাইকেল বা অটো রিক্সাতে করে কমলাদীঘি (যেহেতু আমরা সাইকেল নিয়ে বেড় হয়েছিলাম তাই কোন জায়গার ভাড়া সম্পর্কে বলতে পারবো না তবে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে আমাদের জন্য প্রতি ট্রলার ভাড়া ১৫৫ টাকা এবং সাইকেল ভাড়া ১০০ টাকা গিয়েছিলো)

ঐখানের পরিবেশটা এখনও অনেক সুন্দর এবং ন্যাচারাল! তাই আশা করি কেউই ঐখানে গিয়ে ময়লা ফেলে পরিবেশটা নষ্ট করবো না৷ আমরা ঐখানে গিয়ে শুকনো খাবার যাই খেয়েছি তার প্যাকেট ব্যাগে করে নিয়ে আসছি এবং পরে নির্দিষ্ট জায়গা দেখে ফেলেছি৷

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *