বিজ্ঞাপনের খরচ কমিয়ে আনবেন যেভাবে

আপনি যখন ফেসবুকে কোন পোস্ট বুষ্ট বা প্রমোট করেন তখন সেই এডটি রিভিউ এর জন্য ফেসবুক টিমের কাছে চলে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মেশিন লার্ণিং এর অটোমেশন এর মাধ্যমেও রিভিউ হয়ে থাকে। একটি এড যখন এপ্রুভ হয় তখন এটি বেশ কিছু ধাপে আপনার সঠিক অডিয়েন্সের কাছে পৌছায়। আর এটিকে ফেসবুক লার্নিং ফেইজ বা শেখার পর্যায় বলে থাকে।

লার্নিং ফেইজ কি?

প্রতিবার যখন একটি পোস্টকে বুষ্ট করা হয় তখন এটি আপনার সেট করা টার্গেটেড অডিয়েন্স এর নিউজফিডে দেখানো শুরু হয়। এতে করে লার্নিং ফেইজ সিস্টেম আপনার এডটির জন্য সবচেয়ে এফেক্টিভ অডিয়েন্স এবং লোকেশন খুঁজে বের করে। বুষ্ট করার প্রথম ১০ ডলার বাজেট পর্যন্ত ফেসবুক লার্নিং ফেইজ পিরিয়ড বলা যায়। এই সময়ের যে রেজাল্ট আসে তা মুল রেজাল্ট হয় না। কখনো দেখবেন যে এড শুরুর সময় প্রতি মেসেজিং বা রিচ কোষ্টিং অনেক বেশী থাকলেও পরবর্তীতে এটি কমে একটি স্ট্যাবল পর্যায়ে চলে আসে। এছাড়াও ফেসবুক বিডিং সিস্টেমের কারণে বিভিন্ন সময় এটি বাড়তে বা কমতে পারে তবে সাধারণত বড় ধরনের কোন পরিবর্তন হয় না। লানিং ফেইজে থাকা এডটি লানিং পিরিয়ডে থাকে যাতে আপনার এডের জন্য সবচেয়ে এফেক্টেভি অডিয়েন্স খুঁজে বের করা যায়।

এড রান হওয়ার কিছুক্ষণ পরের রেজাল্টেই হতাশ বা উৎফুল্ল হবেন না

বুষ্ট এর পর মিনিমাম ২৪ ঘন্টা এবং ম্যাক্সিমাম ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত এটিকে এর মতো রান হওয়ার সুযোগ দিন। আপনি যদি অডিয়েন্স সিলেকশনে কনফিডেন্স হয়ে থাকেন তবে এড কোষ্টিং কমে আসাটাই স্বাভাবিক। এরপরও যদি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর এড কোষ্টিং উর্দ্বগামী থাকে তবে অডিয়েন্স সিলেকশনে পরিবর্তন আনুন। ইতিমধ্যে আসা অডিন্সেকে যাচাই করে সেই স্কেল অনুযায়ী এডটিকে আপডেট করুন। মনে রাখবেন, আপনি যখন একটি এড এ বড় ধরনের কোন এডিট করেন তখন এটি আবারও লার্নিং ফেইজে চলে যায়।

কোষ্টিং কমিয়ে আনার উপায়

একটি এড যখন লার্নিং ফেইজে থাকে তখন সাধারণত এটির সিপিআর (কোষ্ট পার রেজাল্ট) বেশী হয়। এই সময়ে রেজাল্ট স্টেবল পর্যায়ে থাকে না। কখনো দেখবেন যে সিপিআর অনেক বেড়ে গেছে আবার কখনো দেখবেন খুবই কমে এসেছে। কিছু বিষয় ম্যানটেইন করলে আপনার এডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

লার্নিং ফেইজ পার না হওয়া পর্যন্ত কোন এডিট বা আপডেট করবেন না

যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার এড কোষ্টিং স্টেবল হচ্ছে বা মোটামোটি লেভেলের একটি অবস্থায় গিয়ে দাড়াচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এটিকে রান করার সুযোগ দিন। এই সময়টি মিনিমাম ১০ ডলার স্পেন্ট না হওয়া পর্যন্ত দিন। ডিজিটাল মার্কেটিং মার্কেটিং অন্যতম একটি সুত্র অনুযায়ী একটি এড যখন ১০ ডলার খরচের পরও ভালো রেজাল্ট না দেয় তবে সেটি কন্টিনিউ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

বাজেট নির্ধারণে সতর্ক হোন

অনেকেই আমাকে ইনবক্স করে ৫ বা ১০ ডলার বুষ্ট করাতে চায়। তাদের বক্তব্য “ভাই আগে ৫ ডলার করেন, রেজাল্ট দেখে বাজেট বাড়াবে নে”। বেশীরভাগ উদ্যোক্তারাই এখানে এই ভুলটি করে থাকেন। অনেকে তো ২, ৩ ডলারও টেস্ট পারপোজে স্পেন্ট করে থাকেন। কিছুক্ষেত্রে এটি ভালো রেজাল্ট দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই এমাউন্ট লসের খাতায় চলে যায়। এজন্য আমি সময়সময় অন্তত ১৬ ডলার দিয়ে বাজেট শুরু করার পরামর্শ দেই। আমার মার্কেটিং অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট জেনারেট করার এমাউন্ট গুলো হলো ১৬, ৪০ এবং ডেইলী বাজেট ৪ ডলার।

সঠিক ডিউরেশন সেট করুনঃ

ফেসবুকের ভাষ্যনুযায়ী একটি এড ভালো পারফর্ম করার জন্য অন্তত ৪ দিনের ডিউরেশন সেট করা উচিৎ। আপনি যদি এর কম সময় সেট করে বুষ্ট করেন তবে ভালো রেজাল্ট আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন।

শুরুতেই অনেক পরিমাণে বাজেট দিবেন না

অনেকেই আছেন যারা এগ্রেসিভ ওয়েতে এড রান করতে পছন্দ করেন। বাজেটে ৫০০ বা ১০০০ ডলার বা এর বেশীও প্রতি এডের বাজেট একসাথে দিয়ে দেন। এতে করে ফেসবুক লার্নিং ফেইজে আপনার অনেক পরিমাণ বাজেট নষ্ট হতে পারে যা পরবর্তী সময়ে অনেক ভালো রেজাল্ট জেনারেট করতে পারতো। এর কারণে শুরুতে আগে মিনিমাম একটি এমাউন্ট সেট করুন, তবে সেটি যেন অবশ্যই সর্বমোট ৫০ ডলারের বেশী না হয়। লার্নিং ফেইজ এর পর এড যদি ভালো পারফর্মেন্স দেয় তবে বাজেট বাড়িয়ে দিতে পারেন।

একসাথে অনেকগুলো এড রান করবেন না

একই এড ম্যানেজার থেকে একসাথে অনেকগুলো এড বুষ্ট করলে ফেসবুক লার্ণিং ফেইজ খুব কম টেস্ট রান করতে পারে। এতে করে আপনার এডগুলোর পারফরম্যান্স খারাপ হয় এবং পুরো এড ম্যানেজারের এডসে এর প্রভাব পড়ে।

একের অধিক এডস হলে বাজেট কমবাইন করুন

একই এডসেটে মাল্টিপল এডস করুন। নতুন করে কোন এডসেট তৈরী করার থেকে আগের যেই এডসেটে ভালো রেজাল্ট পেয়েছেন সেটি ব্যবহার করুন। নতুন বা আগের এডসেট, দুটির ক্ষেত্রেই প্রাথমিক লানিং ফেইজ চলে তবে পুরনো এডসেটের রেজাল্ট হিষ্টোরি থাকার কারণে এটি তুলনামূলক ভালো রেজাল্ট জেনারেট করতে পারে। প্রতি এডসেটে সর্বোচ্চ ৬টি পর্যন্ত এডস ভালো অপটিমাইজেশন আনতে পারে। লানিং ফেইজ পার হওয়ার পর সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা এডটি ছাড়া অন্যগুলো অফ করে দিন যাতে অতিরিক্ত খরচ না হয়।
সম্প্রতি ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইনে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় আগের মতো যেকোন পোস্ট বা অডিয়েন্সই ভালো রেজাল্ট আসছে না। বর্তমান এলগরিদম অনুযায়ী কম খরচে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট পেতে এড এ্যসেট, গ্রাফিক্যাল ভিজ্যুলাইজেশন, কনটেন্ট এবং পাশাপাশি অডিয়েন্স সিলেকশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *