নতুন এন্টি-কোভিড স্প্রে কতটা কাজ করে?

সাবেক সাউথ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব যুমা ২০০৬ সালে এক HIV+ পজিটিভ মহিলার সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হয়। সে বলেছিল যে সম্পর্কের পড় স্নান করে নিলে HIV সংক্রমন হয়না। হাস্যকর লাগলেও আসলে কি গোসল করলে HIV হওয়ার চান্স কম হয়?হয়তবা জ্যাকব হলো প্রথম কেইস রিপোর্ট যেখানে রিপোর্ট করা হলো যে গোসল করে নিলে HIV সংক্রমন হয়না। কেইস রিপর্ট দিয়ে কিন্তু বলা যায়না যে আসলেই এই পদ্ধতি কার্যকারি নাকি। কয়েকজন রোগী যদি পাওয়া যায় যারা গোসল করে HIV মুক্ত থেকে গিয়েছে তাহলে এটা একটা কেইস সিরিজ হবে – নতুন এক চিকিৎসা দিয়ে এইডস প্রতিরোধ করার হচ্ছে বলে দাবি। কিন্তু আসলেই কাজ করে কিনা তা দেখার জন্যে দরকার কম্পেয়ার করা।

ধরেন ৫০ জন গোসল করেছে, আর ৫০ জন গোসল করে নাই এদের কে একত্রিত করে কম্পেয়ার করা কয়জনের এইডস হয়েছে কয়জনের হয়নাই যাকে বলে case-control study (গোসল করা মানুষ কেইস আর করেনাই তারা কন্ট্রোল)। এতেও কিন্তু কনফার্ম করা যাবেনা, কারন হয়ত অনেকে প্রটেকশান ব্যবহার করেছে, হয়ত অনেকের আগে থেকেই এইডস ছিল কিন্তু জানা ছিল না, অনেকের হয়ত একের অধিক মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিল, অনেকের শুধু স্বামি/স্ত্রীর মধ্যে।

তো গোসল করা আসলেই কাজ করে কিনা তা প্রমান করার জন্যে লাগবে Randomized Controlled Trial। এখানে আপনি ভেরিয়েবল কে কন্ট্রল করবেন। প্রটেকশান ব্যবহার ছাড়া এক গ্রুপ কে বলবেন গোসল না করতে এক গ্রুপকে বলবেন গোসল করতে। এই সময় আর কোন সম্পর্ক হবেনা। কারন দুই গ্রুপের সব সমান, এক মাত্র এক দল গোসল করবে, একদল করবেনা। এবারের রেসাল্টে হয়ত পেতে পারবেন আসল চিত্র যে আসলে গোসল করে কি এইডস প্রতিরোধ করা যায় কিনা।

হাস্যকর হলেও এভাবে বুঝানোর একটা কারন আছে। প্যান্ডেমিকে প্রচুর ওষুধ নিয়ে গবেষনা হয়েছে। নতুন শুনলাম একটা স্প্রে নিয়েও কথা হচ্ছে। এই স্প্রে কার্যকারি বলা হচ্ছে শুধু ‘case series’ এর ভিত্তিতে। কয়েকজন কে দিলাম তাদের কাজ করেছে। না দিলে।যে কাজ করবেনা এর প্রমান কি?এর জন্যে প্রথমে কম্পেয়ার করা লাগবে যারা পেয়েছে আর যারা পায়নাই তাদের মধ্যে কি তফাৎ আছে? স্প্রে-ওয়ালা কি আগেই সুস্থ হচ্ছে? ভেন্টিলেটার লাগছে কম? যদি তফাৎ থাকে তারপর চেষ্টা করা হবে একটা Randomized Controlled Trial। একজন স্প্রে পাবে, একজন প্ল্যাসিবো পাবে। আইডিয়েলি ডাক্তার ও জানবে না কে কোনটা পেয়েছে, জানলেও সমস্যা নাই কিন্তু একটু উইক হয়। এই রোগীদের তারপর ফলো-আপ করা হবে, রেসাল্ট গুলা স্ট্যাটিস্টিক্যাল অনেক এনালিসিস হবে তারপর যদি তফাৎ পাওয়া যায় তাহলে বলা যেতে পারে এই স্প্রে কার্যকারি।

অবশ্যই প্যান্ডেমিক বলে একটু ইজি করা যেতেই পারে ইমার্জেন্সি ইউজ অথরাইজেশানের জন্যে কিন্তু তাও এট লিস্ট একটা case-control তো করা লাগবে নাকি?কমেন্টে এসে এখন বলবেন আমি শুধু খারাপ খবর দেই, ভাল খবর দেই না। চেষ্টা করেছে তাতে কেন বাধা দিচ্ছেন ব্লা ব্লা। কোন বাধা কিছুই দেই নাই, জাস্ট বললাম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ফলো করতে।তা নাহলে ওই জ্যাকব যুমার মত গোসল করেই নিজেকে এইডস মুক্ত মনে হবে। বেটায় আবার বিয়েও করেছে ৫টা। বাচ্চা কয়টা আছে সেও হয়ত জানে না। সো গোসল করলেই কি তাহলে হয়ে গেল?

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *