ডার্ক ম্যাটার কি?ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

আমাদের মহাবিশ্বের মাত্র ৫% বস্তু আমাদের পরিচিত বস্তুকনা দিয়ে গঠিত যা আমরা দেখতে পারি অথবা যন্ত্রে শনাক্ত করতে পারি। বাকি ৯৫% আমাদের অজ্ঞাত। এর মধ্যে ৬৮% হল ডার্ক এনার্জি যা আমাদের মহাবিশ্বকে সম্প্রসারিত করে এবং বাকি ২৭% হল ডার্ক ম্যাটার যা মহাকর্ষীয় টান তৈরি করে। এখন মহাকর্ষীয় টান যেহেতু ভরযুক্ত বস্তুই করতে পারে তাই ধারনা করা হয় ডার্ক ম্যাটারেরও ভর রয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে অদৃশ্য ভর।

ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব সর্বপ্রথম ধারনা করেন ফ্রিৎস জুইকি ১৯৩৩ সালে। তবে ১৯৩২ সালে ইয়ান ওর্টের পরীক্ষায়ও ডার্ক ম্যাটারের আভাস ছিলো। তারা বিশাল মহাজাগতিক বস্তু যেমন গ্যালাক্সির মোট ভর মহাকর্ষীয় সূত্র দ্বারা নির্ণয় করেন। এরপর ঐ মহাজাগতিক বস্তুর অন্তর্গত আমাদের জন্য দৃশ্যমান সকল কিছুর ভর যোগ করে দেখেন যোগফল পূর্বে প্রাপ্ত মোট ভরের চেয়ে অনেক কম। তারমানে দৃশ্যামান বস্তুর ভর ছাড়াও অদৃশ্য কোনো বস্তুর ভর রয়েছে যা প্রবল মহাকর্ষীয় টান তৈরি করছে।

ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব আবার উঠে আসে গ্রাভিটেশনাল লেন্সিংয়ে। পর্যাপ্ত ভর না থাকা সত্ত্বেও কোনো মহাকর্ষীয় বস্তু যখন তীব্রভাবে আলোকে বাঁকিয়ে গ্রাভিটেশনাল লেন্সিং তৈরি করে তখন সেখানে অদৃশ্য ভরের উপস্থিতি বোঝা যায়। এখানে বলে রাখা ভালো, এই মহাকর্ষীয় টানের পরিমান এতোটাই কম যে তাকে ব্লাকহোল বলা যায় না। তবে গ্যালাক্সির সকল নক্ষত্র গ্যালাক্সিতে আবদ্ধ রাখতে এই টানের ভূমিকা রয়েছে। গ্যালাক্সির প্রান্তীয় নক্ষত্রগুলোর বেগ এতো বেশি হয় যে গ্যালাক্সাির জ্ঞাত ভরের মাধ্যমে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় টান তাকে আটকে রাখতে পারার কথা না। তাও ঐ বেগে ঘুরেও যেহেতু নক্ষত্তগুলো গ্যালাক্সিতে আটকে আছে অতএব গ্যালাক্সির মহাকর্ষীয় টান অবশ্যই বেশি। কিন্তু টানের জন্য দায়ী ভরটা যে অদৃশ্য! এই ভর আমাদের জ্ঞাত ভরের চেয়ে ৪০০ গুন বেশি। এটাই ডার্ক ম্যাটার।

আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ডার্ক ম্যাটারের ভর কেন্দ্রের ভরের দশগুন হতে পারে। ডার্ক ম্যাটার আমাদের সুপরিচিত ব্যারিয়ন দ্বারা গঠিত নয়। এটি নন ব্যারিয়নিক ম্যাটার হওয়ায় এটি ফোটন, এক্সরে, গামা রে শোষন/প্রতিফলন করে না। ফলে আমাদের চোখ দূরে থাকুক যন্ত্রেও এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটির ব্যাখ্যা হিসবে আপাতত তিন ধরনের পার্টিকেল হাইপোথিসিস আছে। একটি হল স্টেরাইল নিউট্রিনো, যা নিউট্রিনোর চেয়েও অত্যন্ত কম বিক্রিয়াশীল হবে। নয়তো এটি কোনো এক্সিয়ন বা উইম্প ( Weakly Interactive Massive Particle)। ডার্ক ম্যাটার অ্যান্টিম্যাটারও নয়।

সেক্ষেত্রে এটি সাধারন ম্যাটারের সাথে বিক্রিয়া করে গামা রে নির্গমন করতো যা কখনো দেখা যায়নি। ডার্ক ম্যাটারের বিপক্ষের যুক্তি হতে পারে যে আমাদের প্রচলিত মহাকর্ষ তত্ত্বে কিছু সংশোধন প্রয়োজন। ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের প্রমান যেহেতু আমরা মহাকর্ষীয় টান বিবেচনা করেই পাই সুতরাং হতে পারে ভর ছাড়াও অন্য কোনো কারনে মহাকর্ষীয় টান তৈরি হয় যা আমাদের বর্তমান তত্ত্বে ব্যাখ্যা হয় না। এরকম ক্ষুদ্র সম্ভাবনা রয়েছে যে বর্তমান মহাকর্ষীয় তত্ত্ব সর্বজনীন নয়। সেক্ষেত্রে হতে পারে ডার্ক ম্যাটার বলে আসলে কিছুই নেই। ভবিষ্যতে আরো তথ্য বিশ্লেষণ করা পর্যন্ত আমাদের জন্য এটা রহস্য হিসেবেই রয়ে যাবে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *