ক্যাপাসিটরঃতিতলি কি পারবে অসহায় সন্তানদের তাদের মায়েদের কাছে ফিরিয়ে দিতে?

সংকটাপন্ন নদী প্লেটাস।যা ক্যাপসিট নগরে অবস্থিত।নদীর এপাড়ে ঘন বসতি কিন্তু নেই কোন কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সুবিধা।তাই এখানকার মায়েরা তাদের ছেলেকে পাঠিয়েছিলো ওপাড়ে কাজ করে সংসার এর হাল ধরার জন্য।নদীর ব্রিজ নেই একটি বাঁশের তৈরি ভাঙ্গা সাঁকো ছিলো।কিন্তু একদিন নদীর জোয়ারে ভেসে যায় সেই সাঁকোটিও।এই একটি মাত্র উপায় ছিলো যার মাধ্যমে ছেলেরা মায়ের কাছে ফিরে আসতো।কিন্তু ভাগ্যের কি চরম দশা!

এ কথা শুনার পর ছেলেদের মাথায় আকাশ ভাঙ্গার মতো অবস্থা হলো।তারা কোন মতেই বিশ্বাস করতে পারছিলোনা।শোনার সাথে সাথে ঘটনা সত্য কিনা তা দেখতে তাদের কর্ম ক্ষেত্র ছেড়ে ছুটে আসে নদীর তীরে।একে একে এপাড়ের মায়ের ছেলে সব নদীর পাড়ে জমা হতে থাকে।আর দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।এ কি হলো!তারা ফিরবে কি করে?

এদিকে মরার উপর খারার ঘা হয়ে দাঁড়ালো আরেকটা ঘটনা।কাজ ছেড়ে আসায় ইন্ডাস্ট্রি তাদেরকে বহিষ্কার করেছে।কি করবে তারা এখন?এদিকে ব্রীজহীন নদী পার না হতে পারার দুঃখ আবার ওদিকে চাকরিচ্যুত।রাগে দুঃখে ছেলেরা নদীর তীরেই চরম হতাশায় দিন পার করতে থাকে।ওদিকে মায়েরা ও সন্তান এর আশায় উৎসুক দৃষ্টিতে নদীর ওপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে।কবে যে ফিরবে মায়ের ছেলে!দিন তাদের আত্মার টান গভীর থেকে গভীর হতে থাকে।

এভাবে দিন কাটতে কাটতে কিছুদিন পর ছেলেদের কাছে একটা সুখবর আসে।শহরের এক পাতি ব্যবসায়ী তিতলি তাদের একটি রাস্তা করে দিবে তাদের মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য।তবে যাওয়ার পথে তার ফ্যাক্টরির কাজ করে যেতে হবে।ছেলেরা সব এক কথায় রাজি।তারা নদী পার না হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মায়ের কাছে ফিরে যায়।যাওয়ার পথে তিতলির কাজ করে যায় সবাই।নিঃসার্থ কাজ পেয়ে ফ্যাক্ট্রিতে নতুন করে আলো জ্বলে উঠে।আর ছেলেরা ও মায়ের কাছে গিয়ে মায়ের হাঁসি ফুটাই।

ধুর ভাই চোখে পানি আনেন কেন?আমি ত ক্যাটাসিটর এর ভিতরের ঘটনা বলছিলাম।অনেক্ষণ গল্প শুনেছেন আসুন এখন গল্পের সাথে পড়াশোনা মেলায়।ক্যাপসিট নগর মানে ক্যাপাসিটর।প্লেটাস মানে ক্যাপাসিটর এর ভিতরে থাকা দুইটি প্লেট।ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে ব্যাটারি,ছেলেরা হলো নদীর ওপারে কাজ করতে যাওয়া ইলেকট্রন। মায়েরা হলো নদীর এপারের ধনাত্মক আধান।আর পাতি ব্যাবসায়ী হলো…… এটা পড়ে বলি।

ক্যাপাসিটর অর্থ ধারক।যা বিদ্যুৎ শক্তি চার্জ আকারে ধারণ করে।ক্যাপাসিটর গঠন করা হয় দুইটি প্লেটকে কিছু দূরুত্বে রেখে তাদেরকে তার দ্বারা ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত করে।প্লেট দুইটি পরষ্পরের সাথে যুক্ত না থাকায় এটি একটি ওপেন সার্কিট এর ন্যায় কাজ করে।যখন আপনি সুইচ অন করবেন আর ব্যাটারি এর মাধ্যমে বিভব প্রয়োগ করবেন তখন কি হবে চলুন দেখি।ক্যাপাসিটর অর্থ ধারক।যা বিদ্যুৎ শক্তি চার্জ আকারে ধারণ করে।ক্যাপাসিটর গঠন করা হয় দুইটি প্লেটকে কিছু দূরুত্বে রেখে তাদেরকে তার দ্বারা ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত করে।প্লেট দুইটি পরষ্পরের সাথে যুক্ত না থাকায় এটি একটি ওপেন সার্কিট এর ন্যায় কাজ করে।যখন আপনি সুইচ অন করবেন আর ব্যাটারি এর মাধ্যমে বিভব প্রয়োগ করবেন তখন কি হবে চলুন দেখি।

বিভব এক প্রকার শক্তি যা পরিবাহীর মুক্ত ইলেক্ট্রন সমূহকে একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে ব্যবহৃত হয়।ত ক্যাপাসিটর এ বিভব প্রয়োগ করায় ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে ইলেক্ট্রন আসতে শুরু করবে।কিন্তু যখন প্লেটের কাছে আসবে তখন যেহেতু প্লেট দুইটি পরষ্পর সংযোগবিহীন তাই ইলেক্ট্রন গুলো আর ওপারে যেতে পারবেনা।ফলে সেগুলো ঐ প্লেটে জমা হতে থাকবে।এখন এই প্লেটে ইলেক্ট্রন যেহেতু বেড়ে গেলো তাই অপর প্লেটে মৌল সমূহ ভারসাম্য রক্ষার জন্য ইলেক্ট্রন ত্যাগ করতে শুরু করবে আর প্লেটাস নদীর ওপারের সন্তান হারা মায়েদের মতো সন্তান(ইলেক্ট্রনকে) বুকে নিয়ে বুক ভরাতে চাইবে(নিষ্ক্রিয়)।এভাবে দুইটি প্লেটের একটিতে ধনাত্মক আধান আর অন্যটিতে ঋণাত্মক আধান জমা হবে।যার কারণে উভয় প্লেটের মাঝে আত্মার টান দুঃখিত বিভব পার্থক্য বাড়তে থাকবে।দেখুন এখানে আধান এর পরিমাণ যত বেশি বিভব ও তত বাড়বে।কিন্তু যখন প্লেট দুইটির মাঝের বিভব ব্যাটারির সমান হয়ে যাবে তখন আর ইলেক্ট্রন প্লেটে জমা হবেনা।

এবার আপনি যদি ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তাহলে আমরা যা পাবো তা হলো,প্লেটাস নদীর দুই তীরে সন্তান ও মায়ের মতো একদিকে ইলেক্ট্রন এবং অন্য দিকে ধনাত্মক আধান জমা হয়ে থাকবে।এখন এই ইলেক্ট্রন গুলোকে যদি তিতলির মতো তাদের মায়েদের কাছে অর্থাৎ ধনাত্মক আধানের কাছে যাওয়ার একটি পথ করে দেওয়া হয় তাহলে কি হবে?তাহলে ইলেক্ট্রন সমূহ সেই পথ দিয়েই ধনাত্মক প্রান্তের দিকে ছুটবে।আর সেই পথে যদি একটি বাতি রাখা হয় তাহলে ইলেক্ট্রন সমূহ সন্তানদের তিতলির ব্যবসায় আলো জ্বালানোর মতোই বাতিটি জ্বালিয়ে যাবে।এভাবে একটি ক্যাপাসিটর বিদ্যুৎকে দুইটি প্লেটে আধান হিসেবে জমা রাখে।আর কোন সার্কিটে যুক্ত করলে কারেন্ট সাপ্লাই করে।আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *