“কখনোই সম্ভব নয় বৃহস্পতি গ্রহে অবতরন করা‍” কেন?

কারন পৃথিবীর মতো বৃহস্পতি গ্রহে কোন কঠিন ভূপৃষ্ঠই নেই‍। রয়েছে কেবল বিভিন্ন গ্যাসে ভর্তি একটি বৃহৎ বায়ুমন্ডল যেখানে দানবাকার রঙীন মেঘ, বজ্রপাত ও সমগ্র পৃথিবীকে শুষে নেবার ক্ষমতাসম্পন্ন বৃহদাকার ঘূর্ণিঝড় সর্বদা চলমান‍! কি হবে যদি কোনো নভোচারী অত্যাধুনিক মহাকাশযানে করে এর অভ্যন্তরে যাবার চেষ্টা করে? আসুন সম্মুখীন হই এই রোমাঞ্চকর অভিযানের‍

প্রথমত, এই গ্রহে আপনি প্রবেশই করতে পারবেন না যদি প্রচলিত স্যান্ডার্ড স্পেসশুট পরে সেখানে যান‍। কারন গ্রহের 300,000 কি.মি র আশেপাশে এলেই এর রেডিয়েশন আপনার জৈবিক দেহকে একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলবে‍। এবার এই সমস্যা থেকে বাঁচতে নভোচারীকে এক কাল্পনিক রেডিয়শনরোধী শ্যুট পড়ানো হলো‍। এরপর?

সারফেস থেকে ২৫০ কি.মি নিচে:

গ্রহের কাছাকাছি যাবার পর অভিকর্ষে প্রতি ঘন্টায় ১৮০,০০০ কি.মি বেগে আমরা এর ভেতরে চলে যাবো এবং ২৫০ কি.মি যাবার পর আমরা প্রবেশ করবো -১৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার অ্যামোনিয়ার মেঘের রাজ্যে। এখানে এলে ৪৮২ কি.মি/ঘন্টা(!) বেগের মৃদুমন্দ হাওয়া আমাদের দোলা দিয়ে যাবে আর চোখের সামনে দৃশ্যমান হবে লাল নীল বিভিন্ন রঙের ঘূর্ণিঝড়ের সমাহার‍।

আরো ১২০ কি.মি নিচে:

অভিনন্দন! আমরা চলে এসেছি মানবজাতির ভ্রমনকৃত সর্বোচ্চ গভীরতায়‍। ১৯৯৫ সালে নাসার গ্যালেলিও প্রোব সর্বোচ্চ এই গভীরতায় এসে বায়ুমন্ডলের চাপে ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়‍। এখানে বায়ুর চাপ পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের বায়ুর চাপের ১০০গুন বেশি এবং সূর্যের আলো এই গভীরতায় না আসায় অন্ধকারে এবার আমাদের টর্চ জ্বালাতে হবে‍।

৪৩০ মাইল নিচে:

এবার এখানে বায়ুর চাপ ১১৫০ গুন বেশি! এখানে টিকে থাকতে গেলে প্রয়োজন হবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ গভীরতার যেতে সক্ষম Trieste সাবমেরিন‍। এর আরো একটু গভীরে যখন যাবো পৃথিবীর সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে কারন এখানের বায়ুমন্ডল রেডিওওয়েভ তরঙ্গ শুষে নিতে সক্ষম‍।

২৫০০ মাইল নিচে:

এখানে তাপমাত্রা ৬১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট! অর্থ্যাৎ এই গভীরতায় ইউনিভার্সের সর্বোচ্চ গলনাঙ্কের মৌল টাংস্টেনও গলে যাবে! লক্ষ্যনীয়, ১২ ঘন্টা ধরে পতিত হহলেও আমরা এখনো অর্ধেকও পৌছতে পারিনি‍।

১৩,০০০ মাইল নিচে:

এটা inner most layer. এখানে চাপ পৃথিবীর চেয়ে ২ মিলিয়ন গুন বেশি‍। এবং তাপমাত্র সূর্যের পৃষ্ঠের থেকেও বেশি‍। এই পরিস্থিতি এতোটাই ভয়ঙ্কর যে এখানে হাইড্রোজেনের রসায়নও বদলে যায়! এতো শক্তির প্রভাবে হাইড্রোজেনের ইলেকট্রন ঘনিভূত হয়ে এক অস্বাভাবিক পদার্থ “Metalic hydrogen” গঠন করে! এটি অত্যন্ত প্রতিফলন ক্ষমতা সম্পন্ন তাই এখন আর লাইট ব্যাবহার করে লাভ হবে না! এই মেটালিক হাইড্রোজেন যথেষ্ট ঘন‍। এর ভেতরে প্রবেশ যদি করি তবে এর প্লবতা আমাদের ওপরের দিকে ঠেলবে‍। অন্যদিকে গ্রাভিটি টানবে নিচের দিকে‍। আর দুটো ফোর্স সমান হলে আমরা ঐ স্থানে আটকে থাকবো অনন্তকালের জন্য‍।

আমাদের যাত্রা এই পর্যন্তই‍। এর বেশি হয়তো আমরা কোনোদিনই জানতে পারবো না‍। দেখতে পারবো না কি রহস্য রয়েছে এই ভয়ংকর রঙীন মেঘের এর গভীরে‍। তবুও দূরে বসে নক্ষত্র হতে গিয়েও ভরের অভাবে না হতে পারা “Failed Star” খ্যাত, দানব বৃহস্পতি গ্রহকে নিয়ে গবেষনার বহু সম্ভাবনার দুয়ার এখনো খোলা আমাদের সামনে!

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *