ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের পারফরম্যান্স ভালো পাওয়ার উপায়

আমরা অনেকেই আছি,যারা চিন্তা করি আমার ওয়েব সাইট কেনো অন্য কারো থেকে পারফরম্যান্স ভাল নাহ৷ সেটার অনেক কারন হতে পারে। যেমন আপনার ওয়েব সাইটটি কিসে তৈরি! প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম এর একটি পারফরম্যান্স লিমিট থাকে।আমি আজ ওয়ার্ডপ্রেস প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কিছু কথা বলব।ওয়ার্ডপ্রেস এই মুহুর্তে বিশ্বের তুমুল জনপ্রিয় একটি সিএমএস (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর নাম। খুব সহজেই নিজের হোস্টিং একাউন্টে একটি ওয়ার্ডপ্রেস সিস্টেম চালু করা যায়। আজকে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস সাইটকে কীভাবে দ্রুততর করা যায় (অর্থাৎ এর স্পিড বা গতি বাড়ানো যায়) সে ব্যাপারে কিছু জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

১। একটা ভাল হোস্টিং প্ল্যান নির্বাচন করা

সাইটকে দ্রুততর করার জন্য শেয়ারড হোস্টিং এর উপর নির্ভর না করাই ভাল। কেননা এগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় (আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ এবং স্টোরেজ বলা হলেও) মনে হলেও যখন আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বেশি আসে তখন আর এই সার্ভারগুলো কাজ করে না, এমনকি আপনার ওয়েবসাইট অফলাইনেও চলে যেতে পারে অনেক সময়। সুতরাং আপনার ওয়েবসাইটের জন্য নির্ভরযোগ্য দেখে একটা প্ল্যান ক্রয় করুন।

২। উপযুক্ত থিম নির্বাচন করা

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য একটি সুন্দর থিম নির্বাচন করা খুবই গুরত্বপূর্ণ, কেননা আপনার ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীরা সাইটে প্রবেশ করার পর থিমটাই প্রথমে দেখে থাকে। তবে আপনি যখন আপনার সাইটের জন্য থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত। এমন একটি থিম নির্বাচন করবেন যেই থিমটা স্টাইলিশ এবন একই সাথে হাল্কা এবং দ্রুত কাজ করে। এখন মার্কেটপ্লেস গুলোতে এরকম অনেক ভাল ভাল ওয়ার্ডপ্রেস থিম পাওয়া যায়।

৩। ইমেজ অপ্টিমাইজ করা

সাইটে ইমেজ আপলোডের ক্ষেত্রে এমন ইমেজ দিতে হবে যার সাইজ কম। আবার এত কম নয় যে কোয়ালিটি খারাপ হওয়ার কারণে ভিজিটর বিরক্ত হয়। অন্যদিকে বেশি বড় আকৃতির ছবি দিলে সাইট লোড হতে দেরি হয় এবং এটাও ভিজিটর দের বিরক্তির কারণ। এখন অনেক ধরনের ইমেজ রিসাইজার পাওয়া যায়।

৪। ক্যাসিং প্লাগিন ব্যবহার করা

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটকে দ্রুত লোড করাতে চান সেইক্ষেত্রে ক্যাসিং প্লাগিনের কোন বিকল্প নাই।কেননা আপনার সার্ভার যদি স্লো কাজ করে তখন ক্যাসিং প্লাগিন আপনার ওয়েবসাইটকে আর দ্রুত লোড করে আপনার সাইটের ভিসিটরের সামনে নিয়ে আসে।

৫। ডাটাবেজ অপ্টিমাইজ করা

অনেক ধরনের অপ্রয়োজনীয় ডাটা ডাটাবেজে প্রতিনিয়ত সংরক্ষিত হতে থাকে যেমন ট্র্যাকব্যাক, পিং ব্যাক ইত্যাদি।

৬। প্লাগইন এর পারফর্মেন্স পর্যবেক্ষণ করা

সেলফ হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস সাইট এমন সব প্লাগইন ইন্সটল করার সুবিধা দেয় যা ওয়ার্ডপ্রেস ডটকমে পাওয়া যায় না। তবে বেশি মাত্রায় প্লাগইন ব্যবহারে সাইট স্লো হয়ে যায়। একারণে কোন প্লাগিন আপানার জন্য কতটা দরকারি এবং কোন প্লাগিন কী পরিমাণ লোডিং টাইম নিচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।

৭। সিডিএন ব্যবহার করা

সিডিএন বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক আপনার সাইটের যাবতীয় কনটেন্ট (টেক্সট, ইমেজ, এইচটিএমএল প্রভৃতি) হোস্টিং সার্ভার থেকে নিয়ে দ্রুততর উপায়ে ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছে দেয়। এতে আপনার মূল সার্ভারে চাপ কম পড়ে এবং সাইট ফাস্ট হয়।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *